ন্যাশনাল বাস্কেটবল এসোসিয়েশন(এনবিএ)-এর ২০২৬-২৭ এনবিএ সিজনের উদ্বোধনী ম্যাচে ২২ পয়েন্টের লিড হাতছাড়া করে ডেট্রয়েট পিস্টন্সের কাছে ১২১–১১৩ ব্যবধানে হেরেছে বস্টন কেলটিক্স। কেলটিক্সের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই পল জর্জ দলের ইতিহাসে রেকর্ড ৩৮ পয়েন্ট স্কোর করেন।
অন্যদিকে, ডেট্রয়েটের পক্ষে জেলেন ডুরেন ও কেড কানিংহাম প্রত্যেকে ২২ পয়েন্ট করে অবদান রাখেন।
গত ২০ অক্টোবর মিশিগানের ডেট্রয়েটের লিটন সিজার্স এরেনাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে বস্টন কেলটিক্স ডেট্রয়েট পিস্টন্সের চেয়ে ২২ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও এরপর খেলার মোড় ঘুরে যায়।
গত বছরের প্রথম রাউন্ডের মতোই কেলটিক্স পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং পিস্টন্সের কাছে ১২১-১১৩ ব্যবধানে হেরে যায়।
জেসন ট্যাটামের জন্য ম্যাচটি ছিল বেশ কঠিন। তিনি ২৩টি শট নিয়ে মাত্র ৬টিতে সফল হন এবং মোট ১৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে, কেড কানিংহাম ২২ পয়েন্ট ও ৮টি অ্যাসিস্ট করে ডেট্রয়েটের জয় নিশ্চিত করেন।
কেলটিক্স তাদের প্রাক-মৌসুমের শুরুর একাদশে ডেরিক হোয়াইট, পল জর্জ, জর্ডান ওয়ালশ, জেসন ট্যাটাম এবং মিচেল রবিনসনকে নামায়।
মনোনিউক্লিওসিসজনিত অসুস্থতার কারণে ডেভিন কার্টার এই ম্যাচে খেলতে পারেননি। পিস্টন্সের শুরুর একাদশে ছিলেন কেড কানিংহাম, ডানকান রবিনসন, অসার থম্পসন, জন কলিন্স এবং জেলেন ডুরেন। ডেট্রয়েটের হয়ে কেবল টরিন প্রিন্স এই ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন।
কেলটিক্সের শুরুটা ছিল ধীরগতির। তাদের প্রথম তিনটি পজেশনেই বল হাতছাড়া হয়। জেসন ট্যাটাম একটি 'অ্যান্ড-ওয়ান' লে-আপের মাধ্যমে এই মৌসুমে কেলটিক্সের হয়ে প্রথম পয়েন্ট স্কোর করেন।
ম্যাচের শুরুর দিকে জর্ডান ওয়ালশ দারুণ প্রভাব ফেলেন। প্রথম ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি ৪টি রিবাউন্ড (যেগুলোর মধ্যে ২টি ছিল অফেন্সিভ রিবাউন্ড) সংগ্রহ করেন। তবে সামগ্রিকভাবে কেলটিক্সের আক্রমণভাগ ছিল অগোছালো। প্রথম কোয়ার্টারেই তারা ৬টি টার্নওভার করে।
প্রথম কোয়ার্টারের শেষ মুহূর্তে জেসন ট্যাটামের একটি 'বাজার বিটার' (সময় শেষ হওয়ার মুহূর্তে করা শট) কেলটিক্সকে ২৮-২৭ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। পুরো প্রথম কোয়ার্টার জুড়ে খেলে ট্যাটাম ৭ পয়েন্ট, ৪টি অ্যাসিস্ট ও ৩টি রিবাউন্ড নিয়ে দলের সেরা পারফর্মার ছিলেন। বেঞ্চ থেকে নেমে পেইটন প্রিচার্ড ৬ পয়েন্ট যোগ করেন।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই কেলটিক্স ১১ জন খেলোয়াড়কে মাঠে নামায়। এটি স্পষ্ট যে এই মৌসুমে তারা মিচেল রবিনসন এবং পল জর্জের খেলার সময় (মিনিট) সীমিত রাখার পরিকল্পনা করেছে।
ম্যাচের শুরুর দিকে টার্নওভার এবং রিবাউন্ডের লড়াইয়ে পিস্টন্স এগিয়ে ছিল। জো মাজুল্লা যিনি সবসময় শট মার্জিন বা খেলার সুযোগ তৈরির ব্যবধানের ওপর জোর দিয়ে থাকেন তার কাছে এটি নিশ্চয়ই মোটেও ভালো লাগার মতো বিষয় নয়।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে কেলটিক্স টানা ১৫-০ পয়েন্ট স্কোর করে ৫০-৩৯ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এই সময়ের শেষ ১ মিনিট ১১ সেকেন্ডে তারা মিচেল রবিনসন ও নিমিয়াস কুয়েটাকে নিয়ে ‘ডাবল বিগ’ লাইনআপ ব্যবহার করেছিল।
হাফ-টাইমের ঠিক আগে কেভিন হার্টার একটি ‘বাজার বিটার’ নেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বলটি সময়মতো হাত থেকে না ছাড়ায় তা গণ্য হয়নি। ফলে প্রথমার্ধ শেষে কেলটিক্স ৫৮-৪৫ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। কেলটিক্সের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭ পয়েন্ট স্কোর করেন পল জর্জ। অন্যদিকে, জেসন ট্যাটাম ১১ পয়েন্ট, ৬ অ্যাসিস্ট ও ৫ রিবাউন্ড সংগ্রহ করেন।
• চূড়ান্ত স্কোর: পিস্টন্স ১২১, সেলটিক্স ১১৩
• প্রথমার্ধ শেষে স্কোর: সেলটিক্স ৫৮, পিষ্টনস ৪৫
• কেলটিক্সের সর্বোচ্চ লিড: ২২ পয়েন্ট (তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুর দিকে)
• নির্ণায়ক মুহূর্ত: চতুর্থ কোয়ার্টারের শেষ দিকে ডেট্রয়েট টানা ২৩–০ পয়েন্ট স্কোর করে ৮৪–৯৬ ব্যবধানের পিছিয়ে থাকা অবস্থাকে ১০৭–৯৯ ব্যবধানের লিডে রূপান্তর করে।