২০২৭ সালের আগে হাতে পাচ্ছেন না আইফোন ডুও

আপনি যদি এই বছর অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’ (iPhone Duo) পাওয়ার আশা করে থাকেন, তবে আপনার জন্য একটি দুঃসংবাদ আছে। সম্ভবত ২০২৭ সালের আগে আপনি এটি হাতে পাবেন না কারণ আইফোন ডুও-এর হোম ডেলিভারির সময়সীমা ইতিমধ্যেই আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে।
১৬ অক্টোবর সকাল ৮টায় (ইস্টার্ন টাইম) অ্যাপল ‘আইফোন ডুও’-এর প্রি-অর্ডার শুরু করে। প্রি-অর্ডার শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সব রঙ ও স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের ডেলিভারির সময়সীমা ২৩ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চলে যায়। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে অ্যাপল স্টোর অ্যাপে দেখা যায় সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারির তারিখ ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। আর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ অ্যাপটিতে ডেলিভারির তারিখ ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।
সবার জন্য প্রি-অর্ডারের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুন্দর ছিল না। গত সোমবার অ্যাপল গ্রাহকদের সুযোগ দিয়েছিল যেন তারা আগেভাগেই নিজেদের পছন্দের কনফিগারেশন ও পেমেন্ট পদ্ধতি ঠিক করে রাখেন যাতে প্রি-অর্ডারের সময় দ্রুত চেকআউট সম্পন্ন করা যায় কিন্তু অনেক গ্রাহকই দেখেন যে সকাল ৮টা বাজার কয়েক মিনিট পরও অ্যাপল স্টোরটি ঠিকমতো লোড হচ্ছিল না। যখন এটি লোড হলো, ততক্ষণে প্রি-অর্ডারের ডেলিভারির তারিখ নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।
তাই এটি স্পষ্ট যে আইফোন ডুও-এর চাহিদা আকাশচুম্বী কিংবা এমনও হতে পারে যে অ্যাপল এই ডিভাইসের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।
ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ কারণ এতে জটিল কব্জা এবং নমনীয় স্ক্রিন থাকে। সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় এ ধরনের ফোন তৈরির ক্ষেত্রে সফল উৎপাদনের হার অনেক কম হয়ে থাকে। চীনের ‘সিকিউরিটিজ টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাপল তাদের ‘আইফোন ডুও’-এর উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ১ কোটি ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা আগেই ধারণা করেছিলেন যে বাজারে আসার সময় আইফোন ডুও-এর সংকট দেখা দিতে পারে। তবে ডেলিভারির সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকবে।
প্রি-অর্ডার শুরুর এক ঘণ্টা পরও অ্যাপল স্টোর অ্যাপে দেখাচ্ছিল যে সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যাবে ২৫ জানুয়ারি। আগে স্টোর থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহের সুবিধাটি ছিল না, তবে এখন সেখানে লেখা আসছে “২৪ অক্টোবর পুনরায় চেক করুন।”
এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্য কেনার জন্য ‘বট’ ব্যবহার করে। ‘এক্স’-এর এক ব্যবহারকারী গর্ব করে জানিয়েছেন যে তিনি তার তৈরি ‘অটো চেকআউট’ বটটি এমন সব গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেছেন যারা পণ্যটি বাজারে আসার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন।
এই ধরনের ‘কুক গ্রুপ’ মূলত সেইসব রিসেলারদের সহায়তা করে যারা জনপ্রিয় পণ্য কিনে চড়া দামে পুনরায় বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে চায়।
ওই ব্যবহারকারী গর্বের সঙ্গে লিখেছেন, “বিছানা থেকে না উঠেই প্রতিটি ইউনিটে কয়েকশ’ ডলার মুনাফা করা সম্ভব!”
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।