হার্ভার্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বাংলাদেশি চিকিৎসক আতুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নিউ কলেজ নামে। পরে এটির পৃষ্ঠপোষক জন হার্ভার্ড-এর নামে এটির নামকরণ করা হয়।
উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির T.H. Chan School of Public Health–এ Professor of Global Health Systems হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রখ্যাত চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রিফাত আতুন (Dr. Rifat Atun)।
তিনি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংস্কারে একজন প্রভাবশালী চিন্তানায়ক হিসেবেও পরিচিত।
ডা. আতুন বিশ্বের ৩০টিরও বেশি সরকারের সাথে এবং বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ (DfID)-এর সাথে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কার উদ্যোগের নকশা, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নের জন্য কাজ করেছেন।
তাঁর গবেষণা বিশ্বের বহু দেশের স্বাস্থ্য বাজেট, হাসপাতাল কাঠামো ও রোগ ব্যবস্থাপনায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ডা. আতুন হার্ভার্ডে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি
বিষয়ে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণমূলক কাজ পরিচালনা করছেন।
হার্ভার্ডে যোগদানের আগে ডা. রিফাত আতুন ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র একজন শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টা। তিনি ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান কর্মসূচি, জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা কাঠামো সহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বহু দেশের সরকারকে নীতিগত সহায়তা দিয়েছেন।
১৯৯৯-২০০৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য DfID রিসোর্স সেন্টারেরও সদস্য ছিলেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করে স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ বিশ্লেষণ, হাসপাতাল সক্ষমতা পরিকল্পনা, টিকা বিতরণ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ডা. আতুনের চারশয়েরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ দ্যা ল্যানসেট (The Lancet), ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল (British Medical Journal-BMJ), নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অভ মেডিসিন (New England Journal of Medicine-NEJM) স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন বিখ্যাত সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘভিত্তিক স্বাস্থ্য সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবেও আমন্ত্রিত হন।
ডা. আতুনের এই বৈশ্বিক সাফল্য প্রমাণ করে বাংলাদেশি চিকিৎসকরা হাসপাতালে রোগীকে সেবা দিয়ে যেমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তেমনি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিতেও নেতৃত্বমূলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি অন্যদের জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।