
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগরীর বাদশা মিঞা সড়কের ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ১৮ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ নিয়ে গেছে জাপান।
জাপান সরকারের মনোনীত ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করে দেহাবশেষগুলো উত্তোলন এবং জাপানে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় সম্পূর্ণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চল।
সার্বিক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান এবং খননকাজে নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খনন বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অব.), বীরপ্রতীক।
দেহাবশেষ উত্তোলনের পর গত ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়। পরে দেহাবশেষগুলো জাপানে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে মারা যাওয়া ১৯ জন জাপানি সৈনিকের মরদেহ একসঙ্গে কবর দেওয়া হয়।
বিশ্জুড়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের জন্য সমাধিক্ষেত্র প্রস্তুত এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে ‘কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন‘ (সিডব্লিউজিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
কুমিল্লার ময়নামতি ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে দু’টি ওয়ার সিমেট্রি রয়েছে যেগুলো তারা তত্ত্বাবধান করে থাকেন।
চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ১৯ জন সৈনিকের কবর ছিল। সেগুলো একসাথেই কবর দেয়া হয়েছিল। কবর খুঁড়ে ১৮ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ২৩ সৈনিকের দেহাবশেষ নিয়ে যায় জাপান।



